মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৮ মে ২০১৬

আমেরিকান তুলাচাষ প্রযুক্তি

জমি নির্বাচন

তুলাগাছ জমিতে দাঁড়ানো পানি সহ্য করতে পারে না৷ তাই তুলাচাষের জন্য উপযুক্ত হচেছ উঁচু জমি যেখানে বন্যা বা বৃষ্টির পানি ৬-৮ ঘন্টার বেশী জমে থাকে না৷ গাছের শিকড় বিস্ৃতিতে সুবিধাযুক্ত উত্তম নিষ্কাশিত মাটি তুলাচাষের উপযোগী৷ তুলাচাষের জন্য উৎকৃষ্ট হচেছ- বেলে দো-আঁশ ও দো-আঁশ প্রকৃতির মাটি৷ এছাড়াও, এটেল দো-আঁশ ও পলিযুক্ত এটেল দো-আঁশ মাটিতে তুলাচাষ করা যায়৷ অতি অম্ৱ বা অতি ক্ষার উভয় প্রকার মাটি তুলাচাষের জন্য অনুপোযোগী৷ তুলাচাষের জন্য মাটির ‘পি এইচ’ মান ৬-৭.৫ থাকা ভালো৷ মাঝারি লবণাক্ততা (৮ ডিএস/মিটার) সম্পন্ন উঁচু জমিতেও তুলাচাষ করা যায়৷ ছায়াযুক্ত স্যাঁত স্যাঁতে জমি তুলাচাষের জন্য পরিহার করতে হবে৷

জমি তরৈী

চাষ দবোর আগইে বঘিা প্রতি ১.০-১.৫ টন গোবর/কম্পোষ্ট সার জমতিে ছটিয়িে দতিে হব।ে তারপর বৃষ্টরি ফাঁকে ফাঁকে মাটরি ‌জো অবস্থা বুঝে ৩-৪টি চাষ ও মই দয়িে জমি সমতল ও ঝুরঝুরে করে নতিে হব।ে বিভিন্ন আবর্জনা ও আগাছা উত্তমরূপে পরিষ্কার করতে হয়৷ প্রতকিুল পরবিশেে বনিা চাষে ডবিলিং পদ্ধততিে তুলা বীজ বপন করওে ভাল ফলন পাওয়া যায়।

চারা তরৈী করে রোপন

উপরে ছাউনরি ব্যবস্থা করে কাগজ অথবা পলথিনি প্যাকটেে চারা তরৈী করে ১০-১২ দনি বয়সরে চারা মূল জমতিে বপন করা যায়। এ ভাবে নাবীতে পাট ও আউশ ধান কটেে ঐ জমতিে তুলা বপন করে ভাল ফলন পাওয়া যায়।

বপন সময়

জাত ভদেে তুলার বীজ ১ আষাঢ় থকেে ১৫ শ্রাবন র্পযন্ত (১৫ জুন থকেে ৩০ জুলাই র্পযন্ত)  বপনরে সবচয়েে উপযুক্ত সময়। তবে ১৫ ভাদ্র র্অথাৎ ৩১ আগষ্ট র্পযন্ত বীজ বপন করা যতেে পার।ে হাইব্রডি জাত আগাম বপন করা উত্তম। উপযুক্ত সময়ে বীজ বপন করা হলে তুলা উঠয়িে ঐ জমতিে সহজইে বোরো ধান, আলু, গম, ভূট্টা ও সবজরি মতো উচ্চমূল্যরে ফসল আবাদ করা যায়।

বীজ হার

তুলা উন্নয়ন র্বোডরে নজিস্ব  উফশী ওপি জাতরে ক্ষত্রেে বঘিা প্রতি ১.০ কজেি এবং হাইব্রডি এর ক্ষত্রেে ৫০০-৬০০ গ্রাম বীজরে প্রয়োজন হয়। বীজ বপনরে র্পূবে তুলাবীজ ৩-৪ ঘন্টা পানতিে ভজিয়িে শুকনো মাটি বা ছাই দয়িে ঘষে নয়ো উত্তম। মনে রাখা দরকার উচ্চ ফলনরে জন্য বঘিা প্রতি কমপক্ষে ৩ হাজার গাছ থাকা আবশ্যক।

বপন পদ্ধতি

তুলা বীজ সারতিে বপন করতে হয়। সারি উত্তর-দক্ষণি বরাবর লম্বা-লম্বি করে তরৈী করতে হব।ে উপযুক্ত সময়ে বীজ বপন করা হলে সব জাতরে ক্ষত্রেইে সারি থকেে সারি ৯০ সেঃমিঃ (৩ ফুট বা ২ হাত) এবং গাছ থকেে গাছরে দূরত্ব ৪৫ সেঃমিঃ (১.৫ ফুট বা ১ হাত) বজায় রখেে বীজ বপন করতে হব।ে সারি বরাবর মাটি উঁচু করে ( ridge & furrow পদ্ধতি) তার উপর বীজ বপন করা উত্তম কারণ এতে জমি থকেে পানি নষ্কিাশন সহজ হয়, চারা গাছ জলাবদ্ধতার হাত থকেে রক্ষা পায়। ফলে চারা গাছরে বৃদ্ধি ভাল হয়। সাররি উপর নর্দিষ্টি দূরত্বে আধা ইঞ্চি গভীরে ২-৩ টি বীজ সামান্য মাটরি দ্বারা হাল্কা ভাবে ঢকেে দতিে হব।ে বীজ মাটরি দ্বারা শক্ত করে ঢকেে দলিে অথবা র্গত করে বশেী গভীরে বীজ দলিে চারা গজাতে অসুবধিা হতে পার।ে

সারণী-১৪ঃ বীজ বপন দুরত্ব

মাটির ধরণ

বপন দুরত্ব

আগাম

(১৫ জুলাই এর র্বে)

সঠিক সময়ে

(১৫ জুলাই-১৫ আগষ্ট)

নাবী

(১৫ আগষ্টের পর)

বেলে দোয়াঁশ

১০০ সেমিঃ ক্ম ৬০সেমিঃ

১০০ সেমিঃ ক্ম ৬০সেমিঃ

১০০ সেমিঃ ক্ম ৫০সেমিঃ

দোয়াঁশ

১০০ সেমিঃ ক্ম ৬০সেমিঃ

১০০ সেমিঃ ক্ম ৬০সেমিঃ

১০০ সেমিঃ ক্ম ৬০সেমিঃ

এটেল দোয়াঁশ

১০০ সেমিঃ ক্ম ৫০সেমিঃ

১০০ সেমিঃ ক্ম ৬০সেমিঃ

১০০ সেমিঃ ক্ম ৫০সেমিঃ

 

বীজ বপনোপযোগীকরণ

বীজতুলা জিনিং এর পর তুলাবীজের গায়ে ক্ষুদ্র আঁশ বা ফাজ থাকে৷ সে জন্য একটি বীজ থেকে অন্যটি সহজে আলাদা করা যায় না৷ বপনের সুবিধার জন্য তুলাবীজ ৩-৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে তা ঝুরঝুরে মাটি বা শুকনো গোবর অথবা ছাই দিয়ে এমনভাবে ঘষে নিতে হবে যেন আঁশগুলো বীজের গায়ে লেগে যায় এবং একটা হতে অন্যটা সহজেই আলাদা হয়ে যায়৷ তবে জমিতে পর্যাপ্ত রস থাকলে তুলাবীজ পানিতে না ভিজিয়ে বীজ আলাদা করতে হবে৷

সার প্রয়োগ

ভাল ফলন পেতে হলে তুলা ক্ষেতে উপযুক্ত সার সঠিক পরিমান ও নিয়মমাফিক ব্যবহার করতে হয়৷ মাটিতে জৈব ও রাসায়নিক উভয় প্রকার সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন ৷ জৈব সার ব্যবহারে মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধি পায়৷ ফলে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ে, অণুজীব এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং অনুখাদ্যের পরিমাণ বাড়ে৷

বঘিা প্রতি সাররে মাত্রা ও প্রয়োগ পদ্ধতি

সাররে

নাম

 

সাররে পরমিান (কজেি/বঘিা)

মন্তব্য

মোট পরমিান

 

জমি তরৈীর সময় প্রয়োগ (ব্যাসাল)

র্পাশ্ব প্রয়োগ

১ম

(বপনরে ২০-

২৫ দনি পর)

২য়

(বপনরে ৪০-

৫০ দনি পর)

৩য়

(বপনরে ৬০-

৭০ দনি পর)

র্৪থ

(বপনরে ৭০-

৮০ দনি পর)

ইউরয়িা

২৫-৩০

১.৫-২.৫

২.৫-৩

৭.৫-৯

৭.৫-৯

৫-৬

হালকা বুনটরে

মাটতিে অধকি ফলনরে জন্য প্রতটিি সার বশেী সংখ্যক কস্তিতিে প্রয়োগরে উপর গুরুত্বারোপ করতে হব।ে

টএিসপি/ডএিপি

২৫-৩০

১০-১২

-

*৮-৯

*৮-৯

-

এমওপি

৩০-৩৩

৩-৪

৫-৬

৯-১০

৯-১০

৪-৫

জপিসাম

১৪-১৬

৪-৫

-

৬-৭

৪-৫

-

সলুবর বোরণ

২.৫-৩

১-১.৫

-

০.৫০

-

জিংক

২.৫-৩

১-১.৫

-

০.৫০

-

ম্যাগ. সালফটে

২.৫-৩

১-১.৫

-

০.৫০

-

গোবর/কম্পোষ্ট

৬০০-৮০০

-

-

-

 

-

চুন

১০০-১৫০

বীজ বপনের এক মাস পূর্বে

-

-

-

 

অম্ল মাটিতে

নোটঃ বঘিা প্রতি ইউরয়িা সাররে পরমিান ও প্রয়োগ সময় তুলার জাত, প্রয়োগ পদ্ধতি, মাটরি র্উবরতা শক্তি এবং উক্ত সময়রে আবহাওয়ার উপর নর্ভির করে নরিূপণ করতে হব।ে *গাছরে ৪০ দনি এবং ৬০ দনি বয়সে টএিসপি সাররে পরর্বিতে ডএিপি সার র্পাশ্ব প্রয়োগ করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়, সক্ষেত্রেে ইউরয়িা সার বঘিা প্রতি ৫-৬ (১৮%) কজেি কম ব্যবহার করতে হব।ে

সার প্রয়োগ পদ্ধতি

বেসাল সার বীজ বপনের জন্য তৈরী নালায় অথবা পৃথক নালা কেটে প্রয়োগ করতে হবে৷ পার্শ্ব প্রয়োগের ক্ষেত্রে সারি থেকে ৫-৬ সেমিঃ দুরে নালা কেটে সার প্রয়োগ করে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে৷ একবার সারির যে দিকে পার্শ্ব  প্রয়োগ করা হবে পরবর্তিতে তার বিপরীত দিকে পার্শ্ব প্রয়োগ করতে হবে৷ বেসাল সার প্রয়োগ কোন কারণে সম্ভব না হলে তা চড়ান্ত চারা পাতলাকরনের পর পার্শ্ব প্রয়োগ করতে হবে৷ উলে­খ্য, তুলা ফসলে ফুল ধারণ পর্যায় হতে অধিক হারে খাদ্য গ্রহণ শুরু করে যা বোল ধারণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে৷

ফলয়িার স্প্রে

গাছরে বয়স ৫০-৬০ দনিরে পর থকেে ১০০ দনি র্পযমত্ম ১০-১৫ দনি অমত্মর অমত্মর ৩ থকেে ৪ বার মাত্রানুযায়ী ফলয়িার স্প্রে প্রয়োগ করতে হব।ে সে ক্ষত্রেে ইউরয়িা অথবা ডএিপি সার ২% হারে (প্রতি ১০ লটিার পানতিে ২০০ গ্রাম ইউরয়িা/ডএিপি সার), এমওপি সার ১% হারে (প্রতি ১০ লটিার পানতিে ১০০ গ্রাম এমওপি সার) এবং  মাইক্রোনউিট্রয়িন্টে যমেন সলুবর বোরণ, জিংক সালফটে ০.১০-০.১৫% হারে ( প্রতি ১০ লটিার পানতিে ১০-১৫ গ্রাম) পানতিে ভাল করে মশিয়িে গাছরে পাতায় স্প্রে করলে গাছে বোল সংখ্যা বশেী ও বড় হয় ফলে অধকি ফলন পাওয়া যায়।

কম্পোষ্ট/গোবর সার প্রয়োগ

হেক্টর প্রতি ১২.৫ টন কম্পোষ্ট সার, ২.৫ টন ভার্মি কম্পোষ্ট/পোল্ট্রির বিষ্টা অথবা প্রাপ্তি সাপেক্ষে ৫-৬ টন পঁচা গোবর সার জমিতে ছিঢিয়ে চাষ দিয়ে মিশিয়ে দিতে হবে৷ তুলার ফলন বৃদ্ধি ও মান উন্নয়নের জন্য জৈবসার প্রয়োগ করা প্রয়োজন৷ কুইক কপোষ্ট/ভার্মি কম্পোষ্ট তৈরীর পদ্ধতি অনুসরণ করে সহজেই কম্পোষ্ট সার তৈরী করা যায়৷

সবুজ সার প্রয়োগঃ

ধৈঞ্চা ও শন-পাট সবুজ সারের জন্য উপযুক্ত৷ তুলার জমিতে জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম সপ্তাহে ৫০ কেজি/হেঃ সবুজ সারের বীজ বুনতে হয় এবং ৪৫-৫০ দিন পরে জমিতে চাষ দিয়ে সবুজ অবস্থায় ধৈঞ্চা বা শন-পাটের গাছ মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়৷ গাছগুলি মাটিতে পঁচে মিশে যাবার পর তুলাবীজ বপন করতে হয়৷

জাত নির্বাচন

তুলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত ১২টি তুলার জাতের মধ্যে বর্তমানে ৫টি উচচ ফলনশীল তুলার জাত এবং বেসরকারী পর্যায়ে ২টি সীড কোম্পানি কর্তৃক আমদানিকৃত হাইব্রিড জাত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষাবাদ করা হচেছ৷ জাতগুলোর তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য প্রদত্ত হলো:-

সারণী-১৬ঃ জাত নির্বাচনের তথ্য

জাত

১ম ফুল ফোটার দিন (৫০%)

১ম বোল ফোটার দিন (৫০%)

প্রতি গাছে বোল সংখ্যা

বোলের ওজন (গ্রাম)

গাছের গড় উচচতা সে:মি:

বীজ তুলার ফলন

টন/হে

জীবন কাল

(দিন)

জিও টি

(%)

আঁশের দৈর্ঘ্য

(ইঞ্চি)

আঁশের মসৃনতা মাইক্রোনিয়ার

আঁশের শক্তি

পিএসআই

১০

১১

১২

সিবি-৫

৫১

১২২

৪৭

৫.১

১৩৩

১.৭৫-২.০০

১৮০-১৯৫

৪০.০০

১.১৩

৪.৪

৮৫.১৯

সিবি-৮

৬৮

১২৪

৩৫

৪.০

১০৫

১.৫-২.৫

১৮০-১৯৫

৩৫.০০

১.০৮

৪.৩

৮৪.৭০

সিবি-৯

৫২

১১৯

৪৪

৫.৮

১০৬

২.০০-২.৫০

১৯০-২০০

৩৫.৭৫

১.১০

৪.৫

৮৪.১৪

সিবি-১০

৪৫

১১৪

৪২

৫.৫

১২৬

১.৭৫-২.০০

১৫০-১৬০

৩৪.০০

১.১১

৪.২

৮৫.৩২

সিবি-১১

৪৭

১১২

৪৩

৫.৭

১০৬

২.১-৩.৫

১৭০-১৮০

৩৫.০০

১.১৪

৪.৪

৮৭.৪১

সিবি-১২

৪৮

১০০

৪০

৫.৫

১৩০-১৪৫

৩.৩-৪.৫

১৬৫-১৭৫

৪০.০০

১.১০-১.১৪

৩.৯

৮৩.০০

সিবি-১৩ ৪৮-৫৫ ১১৫-১২০ ৩৫-৪০ ৬-৬.৫ ১৩০-১৪০ ৪.৫ ১৭০-১৮০ ৪২ ১.১৬ ৮৪.১৯
সিবি-১৪ ৪৮-৫৩ ১১৫-১২০ ৩৫-৪৫ ৫.৫-৬ ১৩৫-১৪৫ ৪.৫ ১৭৫-১৮৫ ৩৮.৫-৩৯.৫ ১.২০ ৩.৭-৩.৮ ৮৫.০৫

রূপালী-১

হাইব্রিড

৫০-৫৫

১২০

৭০

৪.৫-৫.০

১২০-১৩০

৩.০-৩.৫

১৬০-১৭০

৪০ এর বেশী

১.২১

৪.৩

৯০.০০

ডি.এম-১

হাইব্রিড

৫০-৫৫

১২০

৬৮

৪.৫-৫.০

১২০-১৩০

৩.০-৩.২

১৬০-১৭০

৪০ এর বেশী

১.২৭

৪.৩

৮৯.২১

অন্যান্য বৈশিষ্ট্যসমূহ

সিবি-৫ঃ জাতটির পাতা কিছুটা শুয়াযুক্ত বিধায় জ্যাসিড পোকার আক্রমণ প্রতিরোধী৷ তবে বোলওয়ার্ম ও বৱাইট রোগের প্রতি সংবেদনশীল৷ জাতটি উচচ জিওটি সম্পন্ন৷ এ জাতটি যশোর অঞ্চলের বৃহত্তর যশোর ও কুষ্টিয়া জেলায় চাষাবাদের উপযোগী৷

সিবি-৯ঃ জাতটি কিছুটা শুয়াযুক্ত বিধায় জ্যাসিড প্রতিরোধী৷ বোল সাইজ বড় এবং উচচ ফলনশীল৷ তুলা চাষের আওতাধীন অধিকাংশ জেলায় চাষের জন্য উপযোগী৷ জাতটি অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ মেয়াদী৷ গাছের গঠন দূর্বল প্রকৃতির হয়ে থাকে, ফলে অধিক ঝড়ে গাছ ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা থাকে৷

সিবি-১০ঃ জাতটি অপেক্ষাকৃত আগাম৷ এ জাতটি অন্যান্য ফসল অর্থাৎ সাথী ফসলের সাথে চাষাবাদ সুবিধাজনক৷ আগাম বপন করলে এ  জাতের তুলা ফসল উঠিয়ে নাবী গম, ভ‚ট্টা, আলু প্রভৃতি রবি ফসল চাষ করা যায়৷ যশোর ও রংপুর অঞ্চলের জেলা সমুহে চাষের উপযোগী৷

সিবি-১১ঃ জাতটি আগাম৷ এ জাতের পাতা ওকরা জাতীয় এবং লিফ এরিয়া কম৷ পোকা মাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধী হওয়ায় ফসল উৎপাদন খরচ কম৷ ফলন বেশি৷ জাতটি উত্তরাঞ্চলে চাষাবাদের জন্য উপযোগী৷

সিবি-১২ঃ  জাতটি আগাম৷ রোগ প্রতিরোধী তবে বোল রটের আক্রমণ কিছুটা হতে পারে৷ জ্যাসিড ও এফিডের আক্রমণ হলেও চর্বনকারী পোকা (যেমনঃ বোলওয়ার্ম, স্পটেড বোলওয়ার্ম এবং স্পোডোপটেরা) এর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে৷ জাতটি উচচ ফলনশীল৷ ফলন বেশি (৩.৩-৪.৫) যশোর অঞ্চলে চাষাবাদের জন্য উপযোগী৷

রূপালী-১ হাইব্রিডঃ গণচীনে উদ্ভাবিত হীরা হাইব্রিড রূপালী-১ এর জীবনকাল ১৬৫-১৭০ দিন, জিওটি ৪১%, আঁশ মিহি ,লম্বা ও মজবুত, অগাম জাত, ডাল ভেঙ্গে পড়ে না, স্পটেড বোলওয়ার্ম এর আক্রমন খুব একটা পরিলক্ষিত হয় না, ১০০% বোল থেকে তুলা পাওয়া যায়৷ সুপ্রিম সীড কোম্পানী লিমিটেড কর্তৃক বাজারজাত হচেছ৷ বিঘা প্রতি ফলন ১৪-১৫ মণ৷ ( সূত্রঃ  সুপ্রিম সীড সীড লিঃ)

ডি.এম- হাইব্রিডঃ জাতটি গণচীন থেকে আমদানী করা হয়েছে৷  জীবনকাল ১৫০-১৫৫ দিন, জিওটি ৪২% এর বেশী, ডাল ভেঙ্গে পড়ে না, আঁশ মিহি, লম্বা ও মজবুত স্পটেড বোলওয়ার্ম এর আক্রমন তেমন একটা পরিলক্ষিত হয় না৷ জাতটি লাল তীর কোম্পানী কর্তৃক বাজারজাত করা হচেছ৷ ফলন বিঘা প্রতি ১৪-১৫ মণ ( সূত্রঃ লাল তীর সীড লিঃ)

হরমোন স্প্রে

গাছরে ফুল, কুড়ি ও বোল সংখ্যা বৃদ্ধরি জন্য ৫০-৬০ দনি বয়সরে পর থকেে ৭-১০ দনি পর পর ৩-৪ বার হরমান যমেন পস্নানোফক্র্ি/ফ্লোরা ইত্যাদি গাছরে পাতায় প্রয়োগ করা হলে অধকি ফলন পাওয়া যায়। গাছরে পাতা সবুজ রাখার জন্য সালফার সার প্রতি ১০ লটিার পানতিে ২০ গ্রাম মশিয়িে প্রয়োগ করা যতেে পার।ে

অন্তঃর্বতীকালীন পরর্চিযা

(1)  শূন্যাস্থান পূরণ (গ্যাপ ফলিিং)

বীজ বপনরে ৭-৮ দনিরে মধ্যে যে সব হলিে (র্গতে/মাদায়) চারা গজায় নাই সে সকল মাদায় বা তার র্পাশ্বে পুনরায় বীজ বপন করতে হব।ে বীজ বপনরে সময় জমরি কনিারায় কছিু অতরিক্তি বীজ বপন করে বাড়তি চারা উৎপাদন করলে পরর্বতীতে উক্ত চারা দ্বারা সহজইে গ্যাপ ফলিিং করা যায়। চারা উঠয়িে গ্যাপ ফলিিং বৃষ্টি বা মঘেলা দনিে করা উত্তম।

(2)  চারা পাতলা করণ ও আগাছা দমন

চারা গজানোর ১০ দনিরে মাথায় প্রতি মাদায় ২টি এবং ২০ দনিরে মধ্যে প্রতি মাদায় ১টি করে সুস্থ সবল চারা রখেে বাকী চারা তুলে ফলেতে হব।ে চারা পাতলা করনরে সময় হাত/কাঁচি/কোদাল দ্বারা আগাছা দমন করতে হব।ে গাছে পুরোদমে ফুল না আসা র্পযমত্ম র্অথাৎ বপনরে ৬০-৭০ দনি র্পযমত্ম জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হব।ে আগাছানাশক ব্যবহার করওে আগাছা দমন করা যতেে পারে, তবে আগাছানাশক নর্বিাচন এবং এর প্রয়োগরে ক্ষত্রেে সর্তকতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

(3)    গোড়া মাটি দ্বারা বেঁধে দয়ো

বীজ বপনরে ৪০ দনি পর ১ম বার র্অথ্যাৎ ২য় ইউরয়িা সাররে র্পাশ্ব প্রয়োগরে সময় এবং আবার বীজ বপনরে ৬০ দনি পর ২য় বার র্অথ্যাৎ ৩য় ইউরয়িা সাররে র্পাশ্ব প্রয়োগরে সময় গাছরে গোড়া মাটি দয়িে ভাল করে বেঁধে দতিে হব।ে কোদাল দ্বারা দু’সাররি মাঝরে মাটি টনেে গাছরে গোড়া বাঁধার কাজটি করা যতেে পার।ে ফলে গাছ সহজে ঢলে পড়বে না এবং জমি থকেে পানি নষ্কিাশন ও মাটতিে পরমিতি রস ধরে রাখা সহজ হব।ে

(4)    সচে ও নষ্কিাশন

উপযুক্ত সময় (৩০, জুলাই এর মধ্যে) বীজ বপন করলে তুলা ফসলে কদাচৎি সচেরে প্রয়োজন দখো দতিে পার।ে কন্তিু নাবীতে বপন করার কারনে যদি নভম্বের/ডসিম্বের মাসে জমতিে রস কমে যায় তবে ১/২টি হাল্কা সচেরে প্রয়োজন হতে পার।ে তুলার জমতিে বোল ফাঁটা শুরু করা র্পযাপ্ত যাতে পরমিতি রস থাকে তা নশ্চিতি করা দরকার। সাধারনত গাছরে বয়স ৫ মাস হলে আর সচে দয়ো উচতি নয়, এতে ফসল নাবী হওয়ার আশংকা থকেে মুক্ত থাকব।ে

তুলা গাছ কোন বয়সইে জমে থাকা পানি ২-৩ দনিরে বশেী সহ্য করতে পারে না। চারা অবস্থায় পানি নষ্কিাশনরে দকিে অধকি নজর দতিে হবে, তা না হলে গাছরে গোড়াপঁচা রোগ হওয়ার আংশকা থাক।ে জমি সবসময় ভজিা, স্যাঁতসেঁতে থাকলে গাছরে কুঁড়ি, ফুল ও ফল ঝরে যায়। এরূপ অবস্থায় জমি থকেে অতরিক্তি পানি অপসারণরে মাধ্যমে শুকানোর ব্যবস্থা করতে হব।ে

(৫)অঙ্গ ছাটাই ও ডগা র্কতন

অভজ্ঞিতার ভত্তিতিে দখো যায় যে, তুলা গাছরে গোড়ার দকিে ১-২টি অংগজ শাখা কটেে দলিে গাছরে উপরাংশরে ফলধারী শাখা-প্রশাখার বকিাশ ও বৃদ্ধি ভাল ঘট।ে আলো বাতাসরে চলাচল বাড়ে এবং রোগ ও পোকামাকড়রে আক্রমন কম হয় ফলে ফলন বৃদ্ধি পায়।

()রগিং বা অবাঞ্চিত জাতের গাছ তুলে ফেলা

 

যে জাতের তুলাচাষ করা হয় সে জাত ভিন্ন অন্য জাতের তুলা গাছকে ‘রগ’ বা অবাঞ্চিত জাতের গাছ বলে৷  অবাঞ্চিত জাতের গাছগুলো ফুল ফোটার পূর্বে তুলে ফেলাকে ‘রগিং’ বলে৷ জাতের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য ‘রগিং’ অতি জর‚রী৷


Share with :
Facebook Facebook